উত্তরদিনাজপুর

বন্ধুরা আসবে এই আশায় ২৬ বছর ধরে বন্ধুদের অপেক্ষায় পথের ধারে বসে আরেক বন্ধু

প্রবল শৈত্যপ্রবাহ কিংবা প্রখর তাপ, রোদ জল বা ঝড় বৃষ্টি সবকিছু উপেক্ষা করে দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে বন্ধুদের অপেক্ষায় পথের ধারেই বসে রয়েছেন সত্তরোর্দ্ধ বৃদ্ধ মধু। ছাব্বিশটা বছর ধরে উত্তর দিনাজপুরের রামগঞ্জের ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে কখনও বসে কখনও শুয়ে প্রতীক্ষার প্রহর গুনছেন তিনি। আশেপাশের লোকজন খেতে দিলে খান নইলে অভুক্তও থেকে যান। আশা একদিন না একদিন আসবেনই তার হারিয়ে যাওয়া বন্ধুরা।

    আজ থেকে ২৬ বছর আগে বর্তমান ঝাড়খন্ডের রাঁচির চার বন্ধু ঘুরতে বের হয়েছিলেন। রামগঞ্জের এই ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে মধুকে দাঁড় করিয়ে রেখে বাকিরা কেউ চলে যান শিলিগুড়ি কেউ বা অন্য কোথাও। সেই থেকে বন্ধুদের পথ চেয়ে এখানেই অপেক্ষমান চার বন্ধুর একজন বন্ধু মধু। বাড়ির লোকেরা খোঁজ করতে করতে রামগঞ্জের জাতীয় সড়কের ধারে তাকে দেখতে পান। তার স্ত্রী ও পুত্র শত চেষ্টা করেও তাকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারেননি বাড়িতে। বেশ কিছুদিন অপেক্ষা করে তারাও ফিরে চলে যান। খোঁজ মেলেনি তার সাথী চার বন্ধুরও। আর তখন থেকেই ঝড়-বৃষ্টি তুফান উপেক্ষা করে রাস্তার ধারেই পরে আছেন বৃদ্ধ মধু। আগে দিনরাত্রি খোলা আকাশের নীচেই কাটাতেন, কিছুদিন হলো এলাকার বাসিন্দারা চারটে বাঁশের খুঁটি দিয়ে পলিথিন টাঙিয়ে দিয়েছেন। কেউবা দিয়ে গিয়েছেন একখানি গায়ের কম্বল। আর পেটের জোগার, সে তো কেউ কিছু খেতে দিলে খান নয়তো অভুক্তই থাকতে হয় সারাটা দিন। অনেকেই চেষ্টা করেছেন তাকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাবার জন্য, কিন্তু তিনি তো বন্ধুদের জন্য অপেক্ষা করে রয়েছেন। জাতীয় সড়কের ধারে থাকা দোকানদার কিংবা স্থানীয় বাসিন্দা সকলেরই অনুমান কারও জন্য অপেক্ষারত এই বৃদ্ধকে দীর্ঘদিন ধরে তারা এভাবেই দেখে আসছেন। বন্যা হোক বা বিদ্ধংসী ঝড় তাকে সরানো যায়নি এক ইঞ্চিও। কারও সাথে কথাও বলেননা, কেউ কোনও কিছু জিজ্ঞাসা করলে তার উত্তরও দেননা। কখনও শুয়ে কখনওবা বসে থাকেন নিস্পলক দৃষ্টিতে দূরের ওই রাস্তার দিকে চেয়ে। যেন " সখা হে বসে আছি তব পথপানে চেয়ে "।
বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন নিচের লিংকে 
https://www.youtube.com/embed/82MSume9_lg